তালমাখনার দাম কত

তালমাখনার দাম কত ২০২৪

Last Updated:4 months ago

আসসালামু আলাইকুম আশা করি সকলে ভালো আছেন। আজকে আমরা তালমাখনার দাম সম্পর্কে আলোচনা করবো। তালমাখনা একটি উপকারী ভেষজ ওষুধ। তালমাখনা বীজ, পাতা ও শিকড় ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তালমাখনা গনোরিয়া, জন্ডিস, বাতব্যথা ও মূত্রাশয়ের প্রদাহ সারাতে ব্যবহৃত হয়। তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম মেনে খেলে হজমের গন্ডগোল থেকেও খুব সহজে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে তালমাখনা নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি সেবন করা উচিৎ না, এতে তালমাখনা অপকারিতা হবে বেশি। তালমাখনা আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে থাকে। তালমাখনায় অনেক পুষ্টিগুন উপাদান রয়েছে। অনেকেই তালমাখনার দাম সম্পর্কে জানতে চায়। চলুন জেনে নেয়া যাক তালমাখনা দাম কত

তালমাখনার দাম কত

তালমাখনা অনেক উপকারি হওয়ায় এর চাহিদা অনেক বেশি। বর্তমান বাজারে ১০০ গ্রাম তালমাখনার দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা। এছাড়া ৫০০ গ্রাম তালমাখনার ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি তালমাখনার দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। এবং ১০ কেজি তালমাখনার ৭,০০০ থেকে ৮,০০০ টাকা। তবে এর দাম একেক জায়গায় একেক রকম হয়ে থাকে।

তালমাখনা সাধারণত ৫০ সেমি থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। কাণ্ড থেকেই বহু শাখা-প্রশাখা বের হয়। ফুলের রং উজ্জ্বল বেগুনি লাল কিংবা বেগুনি সাদা। বীজ ছোট, গোলাকৃতির, দেখতে অনেকটা তিলের মতো, তবে বীজের রং গাঢ় খয়েরি। বীজগুলো পানিতে ভিজিয়ে রাখলে চটচটে কিংবা আঠালো হয়। গাছটি বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে, যেখানে বছরে কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে সেখানে পাওয়া যায়।


তালমাখনা চেনার উপায়

আমরা সকলেই জানি তালমাখনা অনেক উপকারি একটি ভেষজ। এটি অনেক ঔষধ বানানোর কাজে ব্যবহৃত হয়। তালমাখনায় এমন কিছু পুষ্টিগুন উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের অনেক উপকার করে। তবে অনেকেই তালমাখনা চিনে না। তাই অনেকেই জানতে চায় তালমাখনা চেনার উপায় কি। চলুন জেনে নেই তালমাখনা চেনার উপায়।

তালমাখনা চেনার উপায়ঃ তালমাখনা মূলত একটি গাছের নাম। এখান থেকে তৈরি হয় ফুল সেই ফুলের মধ্যে থাকে বিজ। তালমাখনা গাছের ব্যবহার্য অংশ হলো তালমাখনা বীজ। তালমাখনা চেনার উপায় হল তালমাখনা বীজ ছোট ছোট সরিষার দানার মতো হয়ে থাকে। এবং এটি কালো রঙের হয়ে থাকে।


তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়

উদ্ভিদটির ইউনানি নাম তালমাখনা আর আয়ুর্বেদিক নাম কোকিলাক্ষা। গাছটির মাটির ওপরের অংশে যেসব রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, তা হলো অ্যালকালয়েড, ফাইটোস্টেরল, স্টিগমাস্টেরল, লুপিয়ল, উদ্বায়ী তেল ও হাইড্রোকার্বন। ফুলের মধ্যে এপিজেনিন এবং বীজে তেল ও এনজাইম আছে। এ গাছের মূল ব্যবহার্য অংশ বীজ। অনেকেই জানতে চায় তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেই তালমাখনা কোথায় পাওয়া যায়।

বর্তমানে অনেক বাজারে দোকানে তালমাখনা পাওয়া যায়। এছাড়াও ইউনানি নাম তালমাখনা আর আয়ুর্বেদিক নাম কোকিলাক্ষা। বাংলাদেশের বিভিন্ন নিম্নভূমি অঞ্চলে, যেখানে বছরে কিছু সময়ের জন্য পানি থাকে, সেখানে পাওয়া যায়। ফুলের মৌসুম হেমন্ত থেকে শীতকাল পর্যন্ত বিস্তৃত। বীজ থেকে চারা হয়। এবং এই তালমাখনা নদী এলাকায় বেশি পাওয়া যায়।


তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম

তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা অনেক। ভেষজ এই ওষুধ সেবনে বিভিন্ন রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই তালমাখনাকে বিভিন্ন রোগের মহৌষধও বলা হয়। অনেকেই তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম জানতে চায়। চলুন জেনে নেই তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম।

সঠিক নিয়মে যদি খেতে পারেন তাহলে আপনার শরীর তালমাখনার সর্বোচ্চ উপকারিতাটা পাবে।তালমাখনা সকালের দিকে খেলে আমাদের শরীরের জন্য খুবই ভালো। আমরা প্রথমে একটি পাত্রে তালমাখনা নিয়ে সেটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো ভিজিয়ে রাখবেন। যখন বিশ মিনিট পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন তখন দেখবেন তালমাখনা আগের তুলনায় কিছুটা বড় হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় পানিতে রাখার পর তালমাখনা অনেকটা ফুলে যাবে।আপনারা যখন দেখবেন তালমাখনা ফুলে গিয়েছে তখনই সরাসরি পাত্র থেকে তালমাখানা নিয়ে খেয়ে নিবেন। তাছাড়া আপনারা চাইলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস পানিতে এক চামচ তালমাখনা মিশিয়ে রাখবেন। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে তালমাখনা খেয়ে নিতে হবে।


তালমাখনা খাওয়ার উপকারিতা

তালমাখনা একটি ভেষজ ঔষধ যার উপকারিতা অনেক। তালমাখনা আবার কুলেখাড়া নামেও বেশ পরিচিত। তালমাখনা এর ইংরেজি শব্দ MARSE BERBEL। এটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশেই পাওয়া যায়। অনেকেই তালমাখনার উপকারিতা সম্পর্কে জানতে চায়। চলুন জেনে নেই তালমাখনার উপকারিতা কি কি।
উপকারিতাঃ
১.তালমাখমার বীজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা সাধারণত আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।তাই হজমের সমস্যা যদি থেকে থাকে তাহলে তালমাখনার বীজ খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন
২.তালমাখনার বীজ নিয়ম করে খেতে পারলে এটি আমাদের শরীরের ডায়াবেটিসের জন্য খুবই উপকারী হতে পারে।
৩.তালমাখনা শরীরের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে থাকে। তাই যারা শারীরিক দুর্বলতার মত সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত তালমাখনার বীজ খেতে পারেন।
৪.যাদের গ্যাস্ট্রিক বা বদহজমের সমস্যা রয়েছে তারা গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট সেবন না করে তালমাখনা খাওয়ার অভ্যাস করতে পারেন। এতে করে গ্যাস্ট্রিকের  সমস্যা খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে দূর হবে।
৫.অনেকের প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যা রয়েছে তাদেরকে নিয়মিত তালমাখনা খেতে হবে তাহলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রসবের জ্বালাপোড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
৬.নিয়মিত তালমাখানা খাওয়ার ফলে হার্টের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা, পিত্তথলির পাথর, মানসিক অবসাদ,এবং শরীরের দুর্বল জনিত বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে।
৭.কিডনি জনিত সমস্যাই রোগীদেরকে তালমাখনা পাউডার খাওয়ার জন্য বলা হয়ে থাকে। তাছাড়া তালমাখনা খাওয়ার আরও অসংখ্য উপকারিতা রয়েছে।কেননা আশ্চর্য এই উদ্ভিদটি প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহের উপকার সাধন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। উদ্ভিদটি হচ্ছে মহান সৃষ্টিকর্তার দেওয়া দারুন এক নেয়ামত। কেননা তালমাখনাতে থাকা ঔষধি গুণ আমাদের শরীরের অনেক ধরনের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

তালমাখনা খাওয়ার অপকারিতা

আমরা অনেকেই তালমাখনা খেয়ে থাকি কিন্ত অনেকেই জানি না যে তালমাখনা বেশি পরিমাণে অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক না। তালমাখনার যেমন উপকার রয়েছে তেমনি অপকারও রয়েছে। অনেকেই জানতে চায় তালমাখনার কি কি অপকার রয়েছে। চলুন জেনে নেই তালমাখনা খাওয়ার অপকারিতা।
অপকারিতাঃ
যদিও তালমাখনা শরীরের অনেক উপকারে সাহায্য করে থাকে। এটির খুব বেশি অপকারিতা না থাকলেও এটি অত্যাদিক সেবন করলে প্যাটের সমস্যা হতে পারে। এবং এতে তেমন কোনো ক্ষতি না হলেও নেতিবাচক প্রাভাব পড়তে পারে। সুতরাং তালমাখনার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। এবং এটি নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে।

আশা করি আপনারা আমাদের এই পোস্ট থেকে তালমাখনার দাম, তালমাখনা খাওয়ার নিয়ম, তালমাখনার উপকারিতা অপকারিতা এবং তালমাখনা সম্পর্কে আরো অনেক কিছু জানতে পেড়েছে। আমাদের এই পোস্টে তালমাখনা সম্পর্কে বিস্তারিত দেওয়া আছে। আশা করি আমাদের এই পোস্টটি আপনাদের ভালো লেগেছে। পুড়ো পোস্টটি ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ পড়ার জন্য ধণ্যবাদ। 

একই ধরনের পোস্ট

×